Open site navigation

অন্তর -view পর্ব ৪


সৌরভ সাহা, পরিচালক অন্তর - view এর চতুর্থ পর্বে তোমাকে আমাদের সাথে এই আড্ডায় যুক্ত হবার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। সৌরভ: ধন্যবাদ তোমাকেও। একটা প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আজ আমরা আনলক ফেজে আছি, লকডাউনের সময়টি যেকোনো ফিল্মমেকারের জন্যেই একটা খারাপ সময়। সেক্ষেত্রে তুমি তোমার সময় কাটাতে কিভাবে? সৌরভ: দ্যাখো, একজন পরিচালক ছাড়াও আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি, আসলে বলতে গেলে শুরুর দিকে আমার প্রথম ফোকাস টাই ছিল ছবি আঁকা। বাড়িতেও অনেকেই যুক্ত ছিলেন আঁকার জগতের সাথে, সেক্ষেত্রে উৎসাহ ছোটো থেকেই পেয়েছি। তাই অনেকটা সময়ই ছবি এঁকে আর সিনেমা দেখেই কাটিয়েছি। সিনেমার প্রসঙ্গে যদি আসি, তবে পরিচালকদের মধ্যে কাদের বেশি ভালো লাগে? সৌরভ: সেক্ষেত্রে বলতে গেলে অবশ্যই সত্যজিৎ রায়, কারণ ছোটবেলা থেকে তাঁর সিনেমা দেখেই সবার বড়ো হয়ে ওঠা এবং সিনেমার প্রতি আরো আগ্রহ জন্মানো। এছাড়াও ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন রয়েছেন। বর্তমান সময়ে বাংলার কোন পরিচালকের কাজ তোমার ভালো লাগে? সৌরভ: দ্যাখো ভালো কাজ অনেকেই করছেন এবং নতুন অনেক পরিচালক রাও আসছেন; তবে পার্সোনালি আমার কৌশিক গাঙ্গুলীর কাজ অনেকটাই ভালো লাগে। আমরা সবাই জানি তোমার সম্প্রতি একটি কাজ "বিহান" অনেক ভালোবাসা এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তাছাড়াও এটি রাজবংশী ভাষায় বানানো একটা চলচ্চিত্র। বাংলা ভাষা থেকে হঠাৎ রাজবংশী ভাষার প্রতি ভালোবাসা বা এই ভাষার ব্যবহার, এমনটা ভাবার কারণ? সৌরভ: আমার জন্ম বিলাসীপারা, ধুবুরি ডিস্ট্রিক্ট আসাম-এ আর বড় হওয়াটা দিনহাটায়। ছোট থেকেই রাজবংশী কালচারের সঙ্গে বড় হয়ে উঠি আমি। রাজবংশী ভাষা অতি প্রাচীন ভাষা। উত্তরবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা এই সমস্ত অঞ্চলে বহু মানুষ এখনও এই ভাষায় কথা বলেন। তাদের ব্যবহার অত্যন্ত ভদ্র, নম্র এবং তাদের জীবনযাত্রাও ভীষণ সরল। তাই হঠাৎই যখন একটা প্লট মাথায় এল, সেই ভাবনার সাথেই কাজটা শুরু করে দিলাম এবং অবশেষে সেটি সফল হলো।

"বিহান" চলচ্চিত্রটি তৈরির শুরুর ঘটনা এবং কিছু অজানা গল্প যদি আমাদের দর্শক বন্ধুদের বলো... সৌরভ: আমি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বেশ অনেকদিন নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ২০১১-১২ সালে একটি নাটক দেখেছিলাম, সেই নাটকটি আমায় ভাবতো খুব, ২-৩ বছর পর ও সেটা আমায় খুব ভাবাতো; যখন আমি রাজবংশী ভাষায় সিনেমা বানাবার কথা ভাবি, তখন সেই নাটকটির প্লট আমার হঠাৎ মাথায় আসে এবং কাজ শুরু করে দিই। এবার যেকোনো সিনেমা বানাতেই প্রথম যেই জিনিসটি বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় সেটি হচ্ছে বাজেট। যত বড়ো বাজেট, ততো ভালো সিনেমা। প্লট গোছানোর পর সেটা জানাই আমার কলকাতার এক বন্ধুকে, তারপর শুরু হল কাজ, বাংলায় প্রথমে স্ক্রিপ্ট লিখলাম এবং সেটাকে রাজবংশী অনুবাদ করা হলো। কলকাতার বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সাথে কথা হয়, এবং ভালো ক্যামেরা, লোকেশান বুঝে কাজ এর জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রথম যেটি বড়ো টার্গেট ছিল সেটি হচ্ছে বাজেট। মুম্বাই এর এক বড় প্রোডাকশন হাউসকে পাঠিয়েছিলাম গল্পটি, তারা রাজিও হলেন, তবে সাথে কিছু শর্তও রাখলেন। স্ক্রিপ্ট এ কিছু বদল হবে, আর রাজবংশী ভাষা ছাড়া বাংলা এবং হিন্দি ভাষায় বানানো যেতে পারে। প্রস্তাবে রাজি না হতে বাধ্য হলাম। শুরু হলো ফান্ড জোগাড় করবার চেষ্টা। আসলে রাজবংশী ভাষার সিনেমা, সেক্ষেত্রে সবাই একটু সংশয় সবার ই ছিল। আসলে এই ভাষা কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল ছাড়া বেশি মানুষের অবগত নয়, সেক্ষেত্রে এটি একটি অসুবিধে ছিল বটে। পরে বিভিন্ন ফান্ডিং এর ব্যবস্থা হলো, অনেক যোগাযোগ হলো, বিদেশেও অনেক সংস্থার সাথেও কথা বললাম, হচ্ছিল না। অবশেষে বন্ধুদের জানিয়ে তাদের কাছ থেকেই ফান্ড কালেক্ট করলাম, বেশ খানিকটা ফান্ড হাতে আসায় শুরু হলো কাজ। প্রথম শুটিং করি ২২ শে মার্চ, ২০১৯, হোলির সময়। প্রথম পাওয়া ফান্ডে ৩ দিন শুটিং করতে পেরেছিলাম। আমার বেছে নেওয়া সমস্ত কাস্ট ই ছিলেন নন - অ্যাক্টর, সেক্ষেত্রে ২০১৮ থেকে ২০১৯, এক বছর ওয়ারকশপের মাধ্যমে অভিনেতা বাছাই শুরু হলো। প্রথমে একটা কাস্টিং বাছা হলো, কিন্তু অনেকেই কাজটির শুরুতে সিরিয়াস থাকলেও পরে তারা চলে গেলেন তাদের ব্যক্তিগত কারণের অজুহাত দেখিয়ে। একটা কাস্টিং অনেক সময় ৫ বার ও বদলেছে। অবশেষে অনেক কষ্টে একটা টিম তৈরি করতে পারলাম, তাদের বিশ্বাস জোগাতে পারলাম। তিন দিনের শুটের পর ইচ্ছে হলো, ট্রেলার বানালাম । আবার ফান্ডের জন্যে দ্বারস্থ হলাম। কলকাতার এক প্ল্যাটফর্মের কাছে আবেদন করলাম, তারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন আমার এই উদ্যোগের প্রচারের মাধ্যমে এবং আরো কিছু ফান্ড কালেক্ট করতে সক্ষম হলাম। প্রথমবার অবশ্য রাজি হননি, তবে দ্বিতীয়বার ট্রেলার দেখার পর রাজি হয়েছিলেন। জুলাই মাসে আবার শুট শুরু হলো, এবার আমি মোট আট দিন শুট করি, প্রথমে তিন দিন, পরে পাঁচ দিন। শুট শেষ করবার পর হাতে টাকা ছিল না, এডিটের কাজ ও বাকি ছিল। সেই মুহূর্তে কলকাতার বিভিন্ন লোকের সাথে কথা হলো, নামি কিছু পরিচালকের সাথেও কথা হলো। প্রথমে এগিয়ে এলেন, পরে আবার পিছিয়ে গেলেন। অবশেষে অনেক কষ্টে ছবিটা শেষ করলাম। এবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই ছবিটি পাঠাচ্ছি, অনেক জায়গায় সিলেক্ট ও হয়েছে। আরো অনেক জায়গায় পাঠিয়েছি আর পাঠাচ্ছিও দেখা যাক... সত্যি বলতে আমি যতটা পড়েছি বা ব্যাপারটা সম্পর্কে জেনেছি, দারুন লেগেছে আমার এবং ফিল্মটি দেখতে অনেকটাই ইচ্ছুক! সৌরভ: দ্যাখো এখন অনেকেই প্রশংসা করছেন, অনেকে লিখছেন সিনেমাটির ব্যাপারে; এটি তিন বছরের একটি সুদীর্ঘ জার্নি, হয়ত আরো এক বছর লাগবে, ২০২১ এর আগে হলে রিলিজ করতেও পারবো না। রিলিজ করতে গেলেও একটা অনেক বড়ো খরচ, জানিনা কতটা কি এগোনো যাবে, দেখা যাক। আচ্ছা এখন তোমার ফিল্মটি সম্পর্কে অনেক রিভিউ লেখা হচ্ছে বা অনেকে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করছেন। এই সমালোচনা কে তুমি কিভাবে নাও ? সৌরভ: দ্যাখো আমি তো তাদের কাউকেই কখনোই বলিনি যে আমি একটি সিনেমা বানিয়েছি, এটা নিয়ে যদি লেখেন। তাদের ভালো লেগেছে আমার কাজ, তারা লিখেছেন। কলকাতার বিভিন্ন নামি পত্রিকাও এই ব্যাপারে লিখেছেন। এবার সিনেমার রিভিউ পড়া আর সেটিকে সিনেমা হলে দেখা, দুটি অনেকটাই আলাদা। সেক্ষেত্রে তেমনটা আমায় ভাবায় না। বেশ। এই যে তুমি একটু আগে বললে যে প্রোডিউসার তোমার গল্পে কিছু বদল করতে চেয়েছিলেন, সেক্ষেত্রে তোমার কি কোনোভাবে মনে হয় যে চলচ্চিত্র সমাজ একটু বেশি প্রোডিউসার ধর্মীয় হয়ে পড়ছে ? বা তুমি কি কোনোভাবে স্বাধীন চলচ্চিত্র তৈরির ক্ষেত্রে আকৃষ্ট হচ্ছো ? সৌরভ: অবশ্যই! আমি একটা কন্টেন্ট নিয়ে বছরের পর বছর ভাবছি। এবার একজন এসে কিছু ছোটো বদল করতে চাইলেন ঠিকাছে, আসলে টাকাটাও তো একটা ফ্যাক্টর, নাহলে কাজটা করা চাপের বিষয়। সেক্ষেত্রে একটা সময় অব্দি মেনে নিতে পারি। আগেই তুমি বলেছো যে স্কুল লাইফ থেকেই তুমি আর্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছ, তখন কি কোনো ভাবে ফিল্মমেকার হিসেবে নিজেকে দেখতে ? সৌরভ: আমার ছবি দেখাটা খুব অদ্ভুত, মানে আমি যেখানে বড়ো হয়েছি, সেখানে খুব একটা নাম করা ছবি আসতো না আর আমরা দেখতেও যেতাম না তেমন। আমি আমার প্রথম ছবি অনেক বড়ো হয়ে দেখেছি এবং যা দেখতাম দূরদর্শনে। ৬-৭ এ পড়াকালীন প্রথম কেবল এলো, বাদবাকি ছোটবেলাটা দূরদর্শনে ছবি দেখেই কাটিয়েছি। ছোটবেলায় ছবি আঁকা টা অনেক বেশি হয়েছে এবং বিভিন্ন কালচারাল ক্রিয়াকর্মে যোগদান ও রয়েছে। পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন শিল্পে তোমার এই ভালোবাসা, এটি কি তোমাকে কোনোভাবে ফিল্মমেকার হিসেবে এগিয়ে আসতে সাহায্য করেছে ? সৌরভ: একদম প্রভাব পড়েছে ! ছোটবেলায় যেকোনো ক্যারেকটার দেখেই সেটাকে রিলেট করে অ্যাক্ট করার চেষ্টা করতাম। সেভেনে পড়াকালীন ক্রিকেট নিয়ে একটা গল্প ভেবে ফেললাম এবং ঠিক করলাম সেটি নিয়ে সিনেমা বানানো। ওখানে তখন একজন কাকু ছিল, কাকুকে বললাম যে এরকম একটা স্ক্রিপ্ট বানাবো, কাকু পুরো খিল্লি করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন! মাঝে মধ্যে এখনও এই জিনিসগুলো নিয়ে ভাবি, তখন থেকেই এই ফিল্মমেকিং এর একটি ক্ষিদে ছিল, মাঝখানে অনেক বছর ছিল না, পরে হঠাৎ ২০১৩ নাগাদ ইচ্ছে জাগলো। এখন একটা সাহস এসেছে যে আমি যদি কোনো কনসেপ্ট ভাবি এবং সেটা নিয়ে কাজ করতে চাই, তবে সেটা আমি পারবো। প্রথম আমি যখন ছবি করবো, তখন অনেক প্রতিকূলতা সহ্য করেছি। এখন তো অনেকেই ক্যামেরা হাতে পেয়েই সিনেমা বানায়, কিন্তু তাদের বোঝানো যায় না, একটা ছবি বানাতে গেলে কতটা শ্রম কতটা শ্রম, চিন্তা, অর্থ ব্যয় করতে হয়। একদমই তাই। তুমি যখন ফিল্ম বানাও, তখন তুমি মূলত কিসের ওপর বেশি জোর দাও ? তোমার কন্টেন্ট না চিত্রনাট্য। সৌরভ: অবশ্যই কন্টেন্ট, রোজ একটা একটা প্লট মাথায় আসে। সিনেমা দেখি আর সেটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে অনেক গল্প আসে। তারপর সেগুলিকে গোছানো, তারপর আসে স্ক্রিনপ্লে। তাই অবশ্যই শুরুতে কন্টেন্ট বেশি প্রাধান্য পায় আমার কাছে। তুমি তোমার এই জার্নিতে বহু মানুষকে পাশে পেয়েছ... সৌরভ: অবশ্যই, কলকাতার বহু দাদারা পাশে ছিলেন আমার। কাজের সময় প্রতিটা মুহূর্তে পাশে থেকে আমায় সাহস জুগিয়েছেন তাঁরা। আমি মাঝে মাঝে হতাশ হলেই তাদের পাশে পাই এবং অনেক সহযোগিতা এসেছে। টোটাল প্রোডাকশন এবং পোস্ট প্রোডাকশন টিমের সাহায্য না থাকলে হতই না। করোনার সময় লক ডাউনের জন্যে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলাম। ছবিটা তাড়াতাড়ি শেষ করবার ইচ্ছে ছিল, পরে বাড়িতে গিয়ে সেখানে আটকে গেলাম। প্রেশার হাই হয়ে মেডিসিন ও খেতে হতো। এখন না হয় সবটাই অনেকটা ঠিক রয়েছে। তোমার বিভিন্ন চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের নিজের চেষ্টায় তুলে ধরা, কোনোভাবে কি তোমার ভেতরের অভিনেতাকে জাগিয়ে তোলে ? সৌরভ: হ্যাঁ অভিনেতা হিসেবেও কাজ করবার ইচ্ছে আছে, অনেকেই বলেছে। আসলে একজন ডিরেক্টর ও অ্যাক্টর। আমি যেটা চাই সেটা আমায় বোঝাতে হবে, আমি যদি সুর ধরি, সেই সুর আমায় বিপরীতে বসা লোকটিকেও বোঝাতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার যদি বেসিক ধারণা না থাকে, সেটা বোঝানো বা কাজটি করা মুশকিল। সুর থেকে তোমায় একটা প্রশ্ন করি, তুমি বিভিন্ন রিয়েলিটি শো তে গান গেয়েছ, জিতেছ, সেক্ষেত্রে এখনও কি গান নিয়ে চর্চা হয়। সৌরভ: হ্যাঁ এখনও হয়, তবে বেসিক ফোকাস এখন ফিল্মমেকার হিসেবেই রয়েছে। বর্তমানে বাংলা সিনেমায় কি বদল দরকার, যেটি আবার তাকে পুরোনো সেই ঐতিহ্যময় যুগে ফিরিয়ে আনবে? সৌরভ: ছবি তৈরির সময় আমরা দেখি অনেকে নিজেরা টিকিট কেটে নিজেরাই হাউসফুল দেখিয়ে দেয় ! আসলে বাংলা সিনেমা কিছু নির্দিষ্ট মানুষের হাতে চলে গেছে, সবটাই ওই লবির হাতে। নতুনরা মন খুলে কাজ করতে পারছে না, যেটি মুম্বাই এ অনেকটাই কম। সেখানে যে স্পেস টা পাওয়া যায়, এখানে তা পাওয়া যায় না। আমি যদি বাংলা সিনেমায় একটা কাস্টিং ভাবি, সেক্ষেত্রে আমাকে কিছু মুষ্টিমেয় অপশন আসছে, যেটা একজন নতুন পরিচালক হিসেবে অসুবিধে সৃষ্টি করে। এই জিনিসগুলো কি তোমায় টলিউডে সিনেমা বানাতে ভাবায়? সৌরভ: হ্যাঁ একটু তো অবশ্যই ভাবায়, কারণ আমি সিনেমা বানাতে চাইলে কার কাছে যাবো, কি করবো, সেটা নিয়ে তো দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। বিষয়টা হচ্ছে কাজ তো আমাকে করতেই হবে, প্রোডিউসারের সাথে হাত মেলাতেই হবে, তবে কাজ নিয়ে কম্প্রোমাইজ করতে আমি নারাজ। এবার যদি তোমার প্রসঙ্গে আসি, তবে তুমি কাকে এগিয়ে রাখবে ? শিল্পী, পরিচালক, নাকি থিংকার সৌরভ সাহা? সৌরভ: অবশ্যই আমি পরিচালক সৌরভ সাহা কে এগিয়ে রাখবো। তার মানে তোমায় ফোকাস কতটা এই ক্ষেত্রে বোঝাই যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে তুমি নিজেকে কোথায় দেখতে চাও? সৌরভ: না অতদূর আমি আপাতত ভাবিনি এখনও, কারণ বর্তমানে যা অবস্থা, তাতে কখন কি হবে সেটা নিয়ে চিন্তা তো থাকেই। তবে আমি যখনই কোনো কাজ করি, আমি সেটাকে আমার প্রথম কাজ এবং শেষ কাজ ভেবেই করে থাকি, যেটা আমায় আরো ভালো কাজ করতে সাহায্য করবে। নতুন ফিল্মমেকার দের জন্যে কি বলবে? সৌরভ: প্রথমত, ফোকাস থাকতে হবে। যদি তার ফোকাস থাকে, তাহলে সে অবশ্যই করতে পারবে। প্রথম জিনিসটাই হচ্ছে মনের জোর রাখা। আমি কি করতে পারবো, কতটা করতে পারবো, সেটা জানতে হবে; ফিল্ম দেখতে হবে, জানতে হবে, তাহলে আপনা আপনি এগিয়ে যাবে। শুরুর দিনে আমি নিজেও জানতাম না। তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে জ্ঞান নিয়ে, ছবি দেখে জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করেছি। আসলটা হচ্ছে তোমার দৃষ্টিভঙ্গী, তুমি কিভাবে দেখছো এবং তুমি সেটাকে কিভাবে প্রদর্শন করছো। তোমায় আজকের আড্ডায় আমার শেষ প্রশ্ন, ও টি টি, না সিনেমা হল? সৌরভ: প্রথমেই সিনেমা হল, তারপর না হয় টেলিভিশন না হয় ও টি টি। আমি নিজেও সিনেমাটি বানাবার সময় সিনেমা হলের কথা ভেবে বানিয়েছিলাম। আসলে একটা ফিল্ম তৈরির সময় অনেক মানুষ যুক্ত থাকেন। ধরো যারা অভিনয় করবেন, তারা চাইবেন তাদের গ্রামের লোকেরা দেখুক, জানুক এই ব্যাপারে। কারণ আমি যে এই সিনেমাটি বানিয়েছি, এটা এখন অনেকেই জানেন। তাই আমি অবশ্যই সিনেমা হল কেই এগিয়ে রাখবো। অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমায় আমাদের সাথে এই আড্ডায় যুক্ত হবার জন্যে, আশা করি আসন্ন সময়ে কোনো একদিন আমরা আবার একটি আড্ডায় বসবো। সৌরভ: অবশ্যই, ধন্যবাদ। By Souptik Dey