Open site navigation

অন্তর - view পর্ব-৩


অন্তর - view এর তৃতীয় পর্বে তোমার সাথে আড্ডায় বসে সত্যিই খুব ভালো লাগছে, স্বাগত তোমায়!


দেবর্ষি : তোকেও অনেক ধন্যবাদ।


আচ্ছা আমরা যারা তোমার গান শুনি, তারা সবাই জানি যে তোমার গানের প্রতিটি শব্দের মধ্যে অন্তর্নিহিত রয়েছে অনেক অর্থ । তোমার এই সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা কি সময়ের সাথে সাথে হয়েছে নাকি রয়েছে কোনো কারণ?


দেবর্ষি : গানের প্রতি ভালোবাসা এসেছে আসলে আমার মায়ের থেকে, কারণ আমার মা নিজেই নজরুল গীতির ছাত্রী, তাই মায়ের কাছ থেকে ছোটবেলা থেকে গান শুনেই বড়ো হয়েছি । তারপরে আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম যে অনেক কিছু বলা যায় গানের প্রতিটি শব্দের মাধ্যমে, অনেককে দেখলাম গানের মাধ্যমে তাদের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে । আসলে গান এমন একটা জিনিস যেটি সমস্ত রকমের মানুষকে এক জায়গায় যেকোনো সময় জড়ো করতে পারে, সেটি প্রতিবাদ-ই হোক, বা প্রেম হোক । তাই আমিও দেখলাম যে সবার মত আমার ও কিছু বলা বাকি রয়ে গেছে, তাই শুরু করলাম গানের যাত্রা । অনেকক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বিশেষ কেও যদি কিছু বলার থাকে, তবে উপায় হিসেবে গানকেই বেছে নিলাম।


বেশ, তার মানে বোঝা যাচ্ছে যে তোমার সমাজদর্শন বা দৃষ্টিভঙ্গী প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে তোমার গানের মধ্যে দিয়ে । তোমার বিভিন্ন গানে শোনা গেছে আমাদের এই শহরের গল্প, আবার অনেক ক্ষেত্রে শুনেছি ব্যর্থ প্রেমিকের কথা; এই প্রকার বিষয়বস্তু গুলিকে বেছে নেবার কারণ?


দেবর্ষি : গান লেখা আসে, বা যেরকম ধরনের লেখা আসে, সেগুলোতে সুর বসিয়ে, খানিকটা এক্সপেরিমেন্ট করি, ভালোবাসি বলে গান গাই, খানিকটা পারি । এবার বিষয়টি হচ্ছে যে যখন যেকোনো জিনিস ই আমাদের জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন সেই জিনিসটি ফুটে ওঠে গানের মাধ্যমে, আবার ধর যখন কোনো ঘটনা, যেটা ভেতর থেকে আমাদের নাড়িয়ে দেয়, তখন সেটিও হয়ে ওঠে গানের বিষয়বস্তু; তবে এটি শুধু গান নয়, অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । গানের ক্ষেত্রে যদি আরো বলি তবে বিভিন্ন প্রকার প্রেম হতে পারে, কারণ আমি মনে করি না যে প্রেম বলতে শুধু একটা ছেলে এবং মেয়ের প্রেম শুধু হয় না, নির্বাক প্রেম ও দেখা যায় আমাদের এই পৃথিবী, এই শহরে । তাই আমি যখন গান লিখি, তখন আমার অনেক রকম চিন্তা আসে, তাদের মধ্যে যেগুলো আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তাদের বেছে নিই গানের বিষয় হিসেবে । আবার ধর সিগারেট পুড়ছে, সেই সিগারেট টিকে শেষ করছে আগুনের স্পর্শ, এভাবেই ধর একজন প্রেমে পুড়ছে । সিগারেটের কাঠি এবং আগুনের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে একটি প্রেম । এছাড়াও শহর তো অজান্তেই প্রভাব ফেলে, কারণ ছোটো থেকে বড়ো গো সবটাই তো এই শহরেই।


বোঝাই যাচ্ছে তুমি একটা গান লিখতে বসলে কতটা গভীরে চলে যাও সেটি নিয়ে; আচ্ছা তোমার এই মিউজিক নিয়ে জার্নিতে যদি পয়েন্ট আউট করে বলতে বলি যে কোন গায়ক বা গায়িকা তোমায় অনুপ্রেরণা দিয়েছে এগিয়ে যাবার, তবে তুমি কাদের নাম নেবে?


দেবর্ষি : ইনস্পিরেশন আমি অনেকের কাছ থেকেই পাই, সেটা পুরাতন কিংবা আজকাল কার দিন, দুই ক্ষেত্রেই । তবে সরাসরি বলতে গেলে যার নাম না বললে হয় না, যার গান শুনে বড়ো হওয়া, যার গান থেকে প্রাপ্ত সাহসে হাতে গিটার ধরা, রূপম ইসলাম । তিনি না থাকলে হয়ত গান গাওয়ার সাহস হয়ত পেতাম-ই না । এছাড়াও প্রচুর মানুষ রয়েছেন, আমার সমসাময়িক ও অনেকে রয়েছেন, যাদের কাজ আমায় অনুপ্রাণিত করে, যারা আমায় প্রতিনিয়ত শেখায় এবং শিখতে বাধ্য করে । তাহলে তোকে একটা ঘটনা বলি, আমি একবার রূপম দার একটি গান গেয়েছিলাম, যেটি রূপম দা share করেছিলেন; তিনি যে share করবেন গানটি, সেটা আমি ভাবতেই পারিনি কখনও ! উনি যে ধরনের মানুষ, একজন নিখুঁত ব্যক্তিত্ব, তাই তাঁর যখন গানটি ভালো লেগেছিল, সেটা দারুণ একটা কিক দিয়েছিল আমায়।


তুমি লাস্ট যে দুটো শব্দ বললে, নিখুঁত এবং পারফেকশনিস্ট, এই দুটির খানিকটা প্রভাব তোমার মধ্যে পাওয়া যায় । সেটা নিয়ে কি বলবে?


দেবর্ষি : না আসলে দেখতে গেলে কোনো মানুষই পারফেক্ট নয়, আমি নিজেও নিজেকে পারফেক্ট বলে বিচার করি না, একটা জিনিসকে যতটা নিখুঁত ভাবে কাজ করে কাজটিকে আরো ভালো করা যায় সেটিই আমার চেষ্টা থাকে, তাই পারফেকশনিস্ট আমি নিজেকে বলতে অপছন্দই করবো; আমার কাজের মধ্যেও প্রচুর ভুল ভ্রান্তি রয়েছে, একদিক থেকে থাকা ভালো কারণ নাহলে কোনো কাজ ভালো করবার চাহিদাটা থাকে না আর!


অনেকক্ষেত্রে এরকম দেখা যায় যে কোনো কাজ পারফেক্ট করতে গিয়ে সহকর্মীর সাথে দ্বন্দ্ব লেগে যায়, সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন তুমি কখনো হলে এই বিষয়ে তোমার বক্তব্য কি থাকবে?


দেবর্ষি : আমার মতে এই পারফেক্ট হবার বিষয়টা সবার কাছে সমান নয়, কারণ হাতের পাঁচ আঙুল তো এক নয়, তাই পাঁচজন মিলে কোনো একটি কাজ করতে গেলে সেক্ষেত্রে সবার আলাদা মতবাদ থাকায় মতভেদ অবশ্যম্ভাবী । তাই সেই সময় যে যেই বিষয়ে পারদর্শী তাকে সেই বিষয়ের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া উচিত, কারণ সে সেই বিষয়টিকে ভালো বুঝবে, এবার ধর যদি কেউ সেটিকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করে, তখন সেই মন্তব্যের যতটা আমার কাজটিকে ভালো করবার জন্যে দরকার ততটুকু আমি গ্রহন করবো, বাকিটা বেদরকারি হলে সেই জায়গায় আমি আমার আইডিয়াটিকে কাজে লাগাতে বেশি পছন্দ করবো।


একদমই তাই, এমন একটা উত্তর আশা করছিলাম; একটা opinion আমরা ততক্ষণ গ্রহন করি যতক্ষণ সেটা আমাদের কাজে লাগে । আচ্ছা সম্প্রতি তোমার রিলিজ করা গান গুলিতে একটা নতুন জিনিস লক্ষ্য করা গেছে, #original ! এই নতুন ট্যাগ টি ব্যবহারের পিছনে কি কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে?


দেবর্ষি : না না সেরকম কোনো কারণ নেই, আসলে আমার যারা নতুন শ্রোতা আছেন বা আসন্ন সময়ে আসতে চলেছেন, তারা অনেক ক্ষেত্রে না ই জানতে পারে যে এটি আমার লেখা এবং আমার সুর দেওয়া গান, তাই তাদের সুবিধার্থেই এই ট্যাগ টি ব্যবহার করছি, তাছাড়া আর কোনো বিশেষ কারণ নেই ! লেখাটি হ্যাস ট্যাগ ছাড়াও লিখতে পারতাম, তেমন কোনো ব্যাপার নেই, এই গানটি যে আমার সৃষ্টি, সেটা বোঝাবার জন্যেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করছি।


এই প্রসঙ্গেই যদি তোমায় একটা প্রশ্ন করে ফেলি, রিমেক গান কি কোনোভাবে independent singing কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ? বর্তমান সময়ে এই বিষয় নিয়ে অনেক দ্বন্দ্ব এবং অনেক সমালোচনা শোনা গেছে, তাই এক্ষেত্রে তোমার ভাবনা টা যদি বলতে...


দেবর্ষি : দ্যাখ রিমেক মানেই যে বাজে হবে সেটি নয়, '৭০ এর একটি গান যদি আজকের দিনে রিমেক করে, সেটিকে বাজে বলা ভুল হবে; তখন একরকমের সাউন্ড স্কেপ ছিল, এখন অন্যরকমের রয়েছে । যে গানটিকে বানাচ্ছে পুনরায়, সে নতুনত্ব কিছু আনছে গানটির মধ্যে, যেটা পরে একটা অন্যরকম রূপ পাচ্ছে, সেটা যে খারাপ তা কিন্তু নয় । তবে এত সুরকার, গায়ক রয়েছেন, তাদের কাছে নতুন গান অবশ্যই শুনতে চাইবো কারণ মৌলিক গানের একটি অন্যরকম জোর আছে । এবার independent singing এর কথায় যদি আসি, তবে অনেক ক্ষেত্রে লেবেল বা স্ক্রিপ্ট এর চাপে গান তার সম্পূর্ণতা পাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও হয়ত প্রভাব ফেলছে । শেষে বলি, মৌলিক গান এবং সিনেমার গান দুটিই সমান তালে চলুক, কিন্তু একের জন্যে অপরের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।


তাহলে কি শীঘ্রই আমরা দেবর্ষি গাঙ্গুলীর তরফ থেকে একটা অ্যালবাম প্রকাশিত হতে দেখতে পারি?


দেবর্ষি : এই রে ! শুনেই কেমন ভয় লাগলো ! অ্যালবাম করার ক্ষেত্রে ফিনান্সিয়াল রেস্ট্রিকশন এর মত অনেক কিছু রয়েছে, তাই আপাতত একটু একটু করেই শুনুক মানুষ, এই মুহূর্তে আগামী দিনে শীঘ্রই হয়ত অ্যালবাম বেরোবে না, দেখা যাক কী হয়।


তাহলে এই মুহুর্তে আমাদের যেটা করণীয় সেটা হচ্ছে অপেক্ষা করা ! বেশ আমরা অবশ্যই অপেক্ষা করছি তোমার অ্যালবামের গান শোনার জন্যে । এবার যদি একটু মিউজিকের অন্য দিকে আসি, তবে আমরা দেখেছি যে অন্তর - view এর প্রথম পর্বে আমরা পেয়েছিলাম সায়ন ঘটক কে, যার সাথে তুমি নবকল্লোল নাট্যদল এ যুক্ত রয়েছ; দলের নাটকের ক্ষেত্রে যেই জিনিসটি আমায় অবাক করে সেটি হচ্ছে নাটকের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গান তৈরি ! এই উদ্যোগটি কিভাবে এলো সেটা নিয়ে যদি বলতে...


দেবর্ষি : ব্যাপার টা খানিকটা সিনেমা তে গান এর মতনই, তবে বিস্তর ফারাকও রয়েছে । তবে নাটকে একটা স্ক্রিপ্ট পেলে সেটিই যে মেইন সেটা নয়, কিছু বক্তব্য বাইরের ও থাকে, তাই সেই ব্যাপারটি প্রভাব পড়ে না; তবে যখন সেটি গান রূপে স্টেজে আসছে, তখন সেটি অন্যরকম একটা রূপ সৃষ্টি করে । এই যে নাটকের সাথে অন স্টেজ লাইভ গান, সেটা বর্তমান সময়ে কলকাতার অন্য কোনো দল করে কিনা সেই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, হয়ত এই প্রকার উদ্যোগ নেওয়া আমরাই রয়েছি । ২০১৭ সালে নবকল্লোল দলে যোগদান দেবার পর যখন এই রকম একটা উদ্যোগ আমি আর সায়ন নিয়ে ফেলি, তখন একটি অন্যরকম আনন্দ ছিল । " গভীর থেকে বলছি " নাটকটির সময় আমার একটি গান ব্যবহার করেছিলাম, যেটি অনেক আগেই লিখে ফেলেছিলাম, যেটি অজান্তেই স্ক্রিপ্টের সাথে মিলে গিয়েছিল; আবার " দূরত্ব " গানটির ক্ষেত্রেও এরকমটি অনেকটা ঘটেছিল । " শহরের হৃদয় থেকে " নাটকটি সম্পর্কে জানবার আগে গানটির মাত্র দুটি স্তবক লিখেছিলাম, কিন্তু গল্প শোনার পর মনে হলো গানটি অটোমেটিক এদিকেই যাচ্ছে, তাই তৃতীয় স্তবক লিখে ফেলতে বেশি সময় লাগেনি আর ! এভাবেই আমার রচিত গানের সাথেই স্ক্রিপ্টের সাথে সূক্ষ্ম একটা মিল পেয়ে যাই । এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, "ছেড়া প্রেমের কাব্য" নাটকটিতে ব্যবহৃত গানটি আমি আগেই রচনা করে ফেলেছিলাম।


দর্শক হিসেবে আমার প্রত্যেকটি কাজ ই অসাধারণ লেগেছে । আচ্ছা নাটকের জন্য তোমার রচনা করা গান গুলির মধ্যে থেকে যদি প্রথম ৩ বিচার করতে বলি, তখন কাদের এগিয়ে রাখবে?


দেবর্ষি : সবে তো শুরু করেছি, এখনই কি বলা যায় ! ২০ বছর পর প্রশ্নটি করলে না হয় বলা যায়; এখন " বলো কে কি পেলে " গানটি ভালো লাগে, লেখাটি ও ভালো লাগে, যা বলতে চেয়েছিলাম হয়ত বলতে পেরেছি । তোর জন্য, বাইশ নম্বর ঘর, দূরত্ব এই গান গুলিও ভালো লাগে । আসলে প্রত্যেকদিনই নতুন নতুন গান ঢুকতে থাকে, তাই এইভাবে ভাবতেও অসুবিধে হয়, কারণ প্রত্যেকটি গান অন্য ধাঁচের, অন্য রকম।


আচ্ছা বেশ, এবার যদি person দেবর্ষি গাঙ্গুলী সম্পর্কে কথা বলি, তবে একজন গায়কের সাথে সাথে তুমি একজন অসাধারণ আর্টিস্ট, এবং তুমি যে আর্ট ফর্ম এর ওপর কাজ করো, "Abstract Art" , সেটা সম্পর্কে যদি কিছু বলতে...


দেবর্ষি : ছবি আঁকা শেখা আমার বাবার কাছ থেকে, বাবা কলাভবন থেকে শিল্প নিয়ে পড়েছেন এবং সেটা নিয়ে শিক্ষকতা ও করেছেন । এবার Abstract Art নিয়ে যদি কথা বলি, সেটার প্রতি আমার টান থাকার কারণ হচ্ছে দুটো, প্রথম হলো আমি abstract বিষয়ের মধ্যে একটা অন্যরকম আনন্দ খুঁজে পাই, এবং দ্বিতীয়ত, Abstract Art মানুষকে ভাবাতে পারে, কারণ এটি নিজে থেকে কিছু না বললেও ক্যানভাসে ভেসে থাকা ওই আঁকা ছবিটি অনেক কিছু বলে, যা দর্শককে ভাবায়; অনেক ক্ষেত্রে এটি দর্শক এবং ছবির মধ্যে একটি দারুন মেলবন্ধন ঘটিয়ে ফেলে, যেটি খুব জরুরি । আবার যেহেতু এটি অন্যান্য ফরমেশন এর মতন সরাসরি কিছু দেখিয়ে দিচ্ছে না, সেহেতু এটিকে নিয়ে দর্শক ভাবতে পারে, যদি সে চায়, যা ঘটায় একটি শৈল্পিক আদানপ্রদান, যেটা খুব জরুরি; কারণ একজন শিল্পীর যেমন সৃষ্টি করা কর্ম, তেমনই হচ্ছে একজন দর্শকের সেই সৃষ্টিকে পর্যালোচনা করা । এটাই কারণ এবং তাই Abstract Art এর প্রতি আমার টান বেশি।


তুমি শিল্পীর সাথে সাথে একজন চাকুরীজীবী, সময় বের করো কি করে?


দেবর্ষি : এই প্রশ্নটি আমায় অনেকেই করেছেন আগে, উত্তরটি আমি নিজেও আসলে জানি না। আমার মনে হয় যে শিল্পের প্রতি ভালো লাগা বা ভালোবাসাই হয়ত সম্ভব করে পুরো ব্যাপারটিকে। চাকরির চাপ না থাকলে আরো ভাবতে পারতাম বিষয় গুলিকে নিয়ে, আরো কিছু কাজ আসতো, আরো নতুন সৃষ্টি করতে পারতাম । এবার কম্পিটিশন অনেক, তাই দিনের শেষে যদি শুধু যদি ছবি বা গানকে ধরে বসে থাকি, তবে পেটে দুবেলা ভাত জো দায় । তাই সবকিছু ব্যালেন্স করে চলতে হয়।


খাঁটি কথাই বলেছ, অনেকটাই মিল পেলাম চিন্তায় তোমার সাথে । একটু অফ বিট প্রশ্নে যদি যাই, ধরো তোমার কাজ কারো ভালো লাগলো না, সেক্ষেত্রে তার কাজটিকে অপছন্দ হওয়া কি তোমায় কোনোভাবে ভাবায়?


দেবর্ষি : ডিপেন্ড করছে ব্যক্তিটি কে এবং আমার ভালো না লাগার বিষয় টির ওপর, হ্যাঁ ভাবাবে তো নিশ্চই, কারণ দিনের শেষে সবটাই দর্শকদের জন্যই করা, তাই ভাবাবে অবশ্যই । কিন্তু সব মানুষের সব কাজ ভালো লাগবেই, এমনটা ঠিক নয়।


বেশ ! আমরা আমাদের এই আড্ডার শেষ দিকে চলে এসছি, তাই তোমায় শেষ প্রশ্ন; তুমি কাকে বেশি এগিয়ে রাখবে ? সিঙ্গার, আর্টিস্ট, না পার্সন দেবর্ষি গাঙ্গুলী?


দেবর্ষি : এগিয়ে রাখার বা পিছিয়ে রাখার কিছু নেই, তিনজনই আমি, তিনটি স্বত্বা একে অপরের জন্যে চলছে, তাই তিনটি সমান তালে রয়েছে, কারণ সবটাই তো আমি।


তুমি আজকে এই সময়ে দাড়িয়ে যারা স্বপ্ন পূরণ করতে চায়, তাদের জন্য কি বলতে চাইবে?


দেবর্ষি : আমার নিজেরই আসলে এখন ও অনেক স্বপ্ন পূরণ বাকি, তবে আমার মনে হয় যে খিদে থাকলে বা সঠিক পথ বেছে নিতে পারলে সাফল্য নিশ্চই আসবে, আমি নিজেও এটি মানি এবং জানি যে বাকি অনেকেই এই নীতি মেনে এসেছে।


অসংখ্য ধন্যবাদ তোমায় আমার সাথে আজকের আড্ডায় থাকবার জন্যে, এইভাবেই আড্ডার ছলে তোমার থেকে অনেক কিছু শিখতে পারলাম, জানতে পারলাম, আশা করি পাঠক বন্ধুরাও জানতে বা শিখতে পারবেন; আজকের পর্ব আমরা এখানেই শেষ করছি, আশা করি আগামী দিনে এভাবেই আরেকটি আড্ডায় যুক্ত হবো আমরা।


দেবর্ষি : অবশ্যই, ধন্যবাদ।