Open site navigation

অন্তর-view পর্ব ২



শুভঙ্কর দাস

স্পোর্টস এডিটর এবং ওয়েব পোর্টাল প্রোডিউসার


অন্তর - view এর আজকের সাক্ষাৎকারে তোমায় পেয়ে সত্যিই আনন্দিত, অসংখ্য ধন্যবাদ সময় দেবার জন্য।


শুভঙ্কর : প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই আমাকে এই সুযোগটা দেওয়ার জন্যে এবং এই উদ্যোগকে কুর্নিশ।


সে তো অবশ্যই ! ২০২০ এর মার্চের শুরু থেকে আমরা একটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছি, কিভাবে কাটছে সময়?


শুভঙ্কর : সময় কাটানোটা আসলে পুরোটাই নির্ভর করছে আমরা কিভাবে বিষয়টাকে ম্যানেজ করতে পারছি। আমি মনে করি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে সেটাই বুদ্ধিমানের কাজ । শুরু থেকেই ওয়েব পোর্টালের কাজ নিয়ে আছি। সঙ্গে শর্ট ফিল্ম এবং অন্যান্য কিছু সামাজিক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছি।


আমরা দেখতে পেরেছি যে বিভিন্ন সময়ে তুমি এবং টিম মিলে বিনোদনের নতুন এক মাধ্যম পরিবেশন করেছ, "দোয়াত কলম মন", যেখানে ঠিক বিনোদন শুধু ছিল বললে চলে না, ছিল কিছু বার্তাও। এইরকম একটা আইডিয়া আসার পটভূমি যদি বলতে...


শুভঙ্কর : প্রথমেই বলি, শুধু "দোয়াত ক্লম মন" না, সঙ্গে ড্রয়িংরুম, লেটার বক্স ওয়েব জার্নাল এবং রিসার্ভ বেঞ্চ। সবমিলিয়ে গোটা লকডাউন জুড়ে আমরা কাজ চালিয়ে গেছি এবং এখনও করছি। আসলে আমরা ভেবেছিলাম যে, কিছু একটা করার ভাগ করব বা লোক দেখানো মেক ওভার নয়। প্রপার প্ল্যানিং কে সঙ্গে করেই করব সবটা আর সেটাই করেছি, এই মুহূর্তে আমাদের একটি ওয়েবসাইটও রয়েছে । তোর এবং আমার দিনের পর দিনে রাতে শুধু স্ক্রিপ্ট এবং কিভাবে সবটা করা যায় সেই বিষয়ে বিস্তর পরিকল্পনা হয়েছে। সঙ্গে সৌত্রিক, রিক এবং আরও অনেকে মিলে ব্যাপারটা এক্সিকিউট করতে সাহায্য করেছে। আর তাই সফল হতে বিশেষ অসুবিধে হয়নি।


পার্সোনাল দিক থেকে দেখতে গেলে সত্যিই একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের । তবে আজকে আমরা একজন অন্য শুভঙ্কর কে চিনি, স্পোর্টস এডিটর শুভঙ্কর দাস । খেলার প্রতি ভালোবাসা বা এরকম হঠাৎ একটা পরিকল্পনা আর সেখান থেকে সাফল্য, যদি কিছু বলো এর সম্বন্ধে..


শুভঙ্কর : খেলা আমি বরাবরই ভালোবাসি, ছোটবেলায় সিখতাম কিন্তু পরে আর সেটা বজায় রাখতে পারিনি। তাই ঠিক করি মাঠের বাইরে থেকে খেলা নিয়ে থাকব । সেটার একমাত্র উপায় হল স্পোর্টস ওয়েব পোর্টাল এডিটর কিংবা অ্যানালিস্ট । তো সেটাই করছি । আমি খেলার বই পড়তাম কিন্তু এখন বেশী ইন্টারনেট চর্চা চলে তথ্য জোগানের জন্য। শুধু খেলা না, এন্টারটেইনমেন্ট, রাজনীতি ছাড়াও অন্যান্য অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আমরা অনেকেই বলি সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল দুনিয়ার অনেক খারাপ দিক। আসলে বিজ্ঞান আমাদের যেটা দিয়েছে সেটাকে ভালভাবে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যম দিয়ে আমরা অনেক কাছাকাছি পৌছতে পারব দর্শকদের। আর একজন ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব সঠিক বিষয়টাই তুলে ধরা...


একদমই ঠিক কথা। তোমাদের এই চারটি পেজের বৃহৎ পরিবারে এত কাজ সামলাবার কোনো গোপন স্ট্র্যাটেজি ?


শুভঙ্কর : একটাই স্ট্র্যাটেজি সঙ্গবদ্ধ হয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লক্ষ্যে স্থির। আর কিছু চ্যালেঞ্জ আসবেই, কিছু নেগেটিভ লোকজনও থাকবে ! তাদেরকে ইগ্নর করিনা বরং তাদেরকে জবাব দিতেই বেশী ভালোবাসি ! তাই হয়ত জেদটাও একটা অঙ্গ...


অবশ্যই যেকোনো ক্ষেত্রেই একটা বাধা সেটা, আমরা স্পোর্টস সেক্টরের ক্ষেত্রে দেখতে পেয়েছি যে বিভিন্ন খবরের ক্ষেত্রে তোমাদের অসাধারণ ধৈর্য এবং দক্ষতা । সেক্ষেত্রে সঠিক খবর আনা এবং সেটার পেছনে কাজ, সেক্ষেত্রে তোমাদের টিম অপারেট কিভাবে করে ?


শুভঙ্কর : প্রতিটা বিভাগ ভাগ করে দেওয়া আছে। আমাদের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হল যে, অনেকগুলো দিক আমাদের সামলাতে হয়। এন্টারটেইনমেন্ট, রাজনীতি, খেলাধুলো এবং আরও অনেক কিছুই। কারণ আমাদের ব্লগ বা ওয়েবসাইট যাই বলিস, সেখান থেকে আমাদের স্পেশাল রিপোর্ট বেরোয়, তো সেগুলোর জন্য সত্যি খবর যাচাই করাটা খুব দরকারি। পোস্টার বানানো থেকে শুরু ক্রএ ভিডিও এডিটিং এবং ব্রডকাস্ট। খবর আনা এবং সেটাকে পাবলিশ, সবটা ভাগ করা আছে। তাই সবটা সঠিক ভাবে এগোচ্ছে এবং অবশ্যই রয়েছে দর্শকদের ভালোবাসা।


লেটার বক্স ওয়ের জার্নাল সম্পর্কে যদি বলি, সেখানে আমরা এক্সক্লুসিভ খবর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাই, সেক্ষেত্রে কখনও কোনো পলিটিকাল চাপ বা কোনো অসুবিধে সম্মুখীন হতে হয়েছে?


শুভঙ্কর : অনেক সময় আমার প্রোফাইলে রিপোর্ট হয়েছে, অনেক মন্তব্য এসেছে তাতে কান দিইনি। বরং এখনও পর্যন্ত অনেক সাজেশন পেয়েছি এবং পজিটিভ ফিডব্যাক এসেছে। উৎসাহ পাচ্ছি আমরা। পোর্টালগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সিনিয়র সাংবাদিকও আমাদের সাহায্য করেছেন ভীষণভাবে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে সত্যি খবর পেশ করবার সাহস সবার থাকে না, সেক্ষেত্রে তোমাদের কুর্নিশ জানাই । কিছুদিন আগেই ইস্টবেঙ্গল স্পন্সর পাবার নিউজে লাল হলুদ মহলে আনন্দের পরিবেশ, কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সেই খবর অনেক আগেই পাবলিশ করেছ তোমরা, এতটা নিপুণতা এবং সাহসিকতা, সত্যিই প্রশংসনীয় । তোমাদের স্পোর্টস পেজ এর টিম সম্পর্কে যদি কিছু বলতে...


এই টিমটা একটা তরতাজা টিম। শুধু প্যাশনকে ভালোবেসে একদল দামাল ছেলে লড়ছে। ইস্টবেঙ্গলের খবর ছাড়াও সন্দেশ ঝিঙ্গানও আমরা অনেকদিন আগে পাবলিশ করেছিলাম। সোর্স এবং তথ্য জোগাড় এই কাজটা পারফেক্ট হতেই হবে। সেটায় আমরা সফল ! এটাকে ধরে রাখতে হবে। তবে হ্যাঁ, খবর খারাপ কিংবা ভালো। পরিবেশন করতেই হবে, তাতে কিছুক্ষেত্রে খারাপ কথা শুনতে হতে পারে। কিন্তু পরে সত্যি প্রমাণিত হলে গর্বের ব্যাপার।


আমি তোমাদের পেজ নিয়ে রিসার্চ করতে গিয়ে দেখেছি, সমালোচনার প্রত্যেকটি খবর সত্যি, সেক্ষেত্রে তোমরা অবশ্যই সফল; তাহলে এবার টিম ম্যান শুভঙ্কর থেকে শুভঙ্কর "অভি" কে চেনা যাক !


শুভঙ্কর: হ্যাঁ একদম।


অফিস খোলবার পর থেকে অবশ্যই হাতে সময় কম থাকে, এদিকে একজন দায়িত্ববান চাকুরীজীবী, অন্যদিকে একজন স্পোর্টস অ্যানালিস্ট, কিভাবে ম্যানেজ করছো ? তোমার এই হেকটিক রুটিনের কিছুটা যদি শেয়ার করতে...


শুভঙ্কর : আসলে আমাদের সিস্টেম টাই এরকম হয়ে গেছে। সবাই বলে যে এতো লেট কেন, এই ওই। আসলে এটাই চ্যালেঞ্জ। এই পৃথিবীতে সবটাই লড়ে নিতে হবে। তাই মাঠটাকে বড় করে খেলতে ভালোবাসি। অফিস খোলবার পড়ে সেটাকে তো সাম্লাতে হচ্ছেই, সঙ্গে এইসব কাজ। তাই সময়টাকে ভাগ করে এবং একটা রুটিন বানিয়ে। মানে এই সময় ওইটা করব তারপরে এইটা এরকম ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছে।


বেশ, কলকাতায় বিভিন্ন তথাকথিত ছোটো ক্লাব, যারা প্রতিভায় পূর্ণ, তাদের কথা তুলে ধরার কোনো ভাবনা রয়েছে রিজার্ভ বেঞ্চ টিমের ? কারণ আমরা দেখতে পেয়েছি তাদের নিয়ে খবর খুব কম হয়, যেখানে তোমরা লাইভে আমন্ত্রণ করেছ তাদের কোচ দের এবং খেলোয়াড় দের।


শুভঙ্কর : অবশ্যই রয়েছে। আমরা তো বরাবর বলে থাকি আমরা নতুন করে কিছু ভাবাতে চাই এবং সেটা রোজদিনের জন্য। এরকম অনেক ফুটবলার বা ক্রিকেটার আছে যাদের কথা অনেকেই জানেনা! অলরেডি সেই কাজ আমরা শুরু করেছি, ফোনের মাধ্যমে ইন্টার্ভিউ এবং লাইভের মাধ্যমে। তাছাড়া এন্টারটেইনমেন্ট সেকশনেও এই নিয়ে কাজ হচ্ছে।


সামনে আই এস এল এবং আই পি এল, দুটি বড়ো টুর্নামেন্টের শুরু। এক্ষেত্রে একজন স্পোর্টস অ্যানালিস্ট হিসেবে দুক্ষেত্রে কোন দল কে এগিয়ে রাখবে এবং কেন?


শুভঙ্কর : দুটো মেজর টুর্নামেন্ট ! তাই অবশ্যই দারুণ চ্যালেঞ্জ এর সামনে দাঁড়িয়ে আমরা, একজন নিরপেক্ষ হিসেবে আমি খেলাকে ভালোবেসে কাজ করে যাবো, রিপোর্ট তৈরি এবং সবটা নিয়ে আমাদের টিম পুরো ঝাঁপাবে। ইতিমধ্যেই আমাদের গ্রুপ সেট হয়ে গেছে। আই এস এলে এবারে জামশেদপুর, মুম্বাই এবং এটিকে মোহনবাগান এগিয়ে। কিন্তু খেলা মাঠে হবে তাই বাকিটা সময় বলবে। আই পি এল নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলছিনা। এই পরিস্থিতিতে খেলা শুরু হচ্ছে এটাই বড় ব্যাপার। শুধু এই দুটি না আই লিগ এবং দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগ নিয়েও আমরা স্টোরি করব...


বোঝাই যাচ্ছে দলে একটা উত্তেজনার পরিবেশ। যদি একটু অফ বিট প্রশ্নে আসি, তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রে দেখতে পারি যে রেসিজম ইন স্পোর্টস, সেক্ষেত্রে তোমার কি বক্তব্য?


শুভঙ্কর : একটা সময়ে অনেকটাই বেশী ছিল, বিতর্ক হয়েছে অনেক, তবে এখন সেটা অনেক কম। মানুষের ধর্ম এবং রং যদি বড় হয়ে যায় তবে সে তাঁর মনুষ্যত্ব হারাবে। তাই মানুষ হয়ে বাঁচতে হবে সেক্ষেত্রে এরকম ঘটনা আর ঘটবেনা আশা করি। আর কদিন আগেই তো দেখলাম মাঠের মধ্যেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হল।


আশা করা যায় এর পুনরাবৃত্তি হবে না এই কঠিন পরিস্থিতিতে, কারণ এখন মানুষ মানুষের পাশে থাকাটা জরুরি।


শুভঙ্কর: একদমই তাই।


সহকর্মীদের চলে যাওয়া, বিট্রেয়াল, আমরা দেখতে পেরেছি বিভিন্ন স্পোর্টস পোর্টাল এ হয়েছে, এই জিনিসটি কি কোনোভাবে তোমায় বিরক্ত করে?


শুভঙ্কর : ভীষণভাবেই করে। এতদিন কাজ করার পরে হটাত এই ঘটনা অনেক জায়গায় ঘটছে, কিন্তু এটা কাম্য নয়। তবে প্রতিটা সংস্থার নিয়মকানুন কিছু আছে । তবে থাকা বা না থাকাটা সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভরশীল, সেক্ষেত্রে আপনার বক্তব্য কতটা কাজ করবে জানা নেই।


পার্সোনাল অ্যাটাক, একটি স্পোর্টস চ্যানেলের পেজ বন্ধ। এই প্রকার মানসিকতা যুক্ত মানুষদের জন্যে কি বলবে?


শুভঙ্কর : প্রথমেই তাদের ধিক্কার ! নিজেদের আক্রোশ মেটানোর জায়গা খেলাধুলোর মাধ্যম হতে পারেনা। কারো জীবিকা নির্বাহ হতে পারে সেটা। তাই এইভাবে লক জোগাড় করে একটা চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া মানে, প্রমাণিত হল যে সেই সমস্ত মানুষ কাজ ভালোবেসে না ! বরং নিজেদের আক্রোশ মেটাতেই এসেছে। আর হ্যাঁ, লড়াই থাকবে, ঠাণ্ডা লড়াই থাকবে ! সেটা কাজের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। কেউ নেগেটিভ মন্তব্য করলে তাঁকে পাল্টা যুক্তি এবং রেজাল্টের মাধ্যমে ফিরিয়ে দাও। কখনোই ক্ষতি করে না।


অত্যন্ত স্ট্রেট টু ফেস একটা উত্তর ! আশা করি এই মেসেজ টা পৌঁছবে তাদের কাছে। আমরা ইন্টারভিউ এর শেষ পর্যায়ে এসে গেছি, তাই শেষে তোমাদের অনেক শুভেচ্ছা রইলো এত ভালো কিছু উদ্যোগের জন্যে এবং ভবিষ্যতে অনেক সাফল্য কামনা করছি। তোমার মত খেলাধুলো প্রিয় মানুষজন, যারা এরকম ই একজন সফল স্পোর্টস অ্যানালিস্ট হতে চায়, তাদের জন্য কি মেসেজ দিতে চাইবে?


শুভঙ্কর : একটাই মেসেজ থাখবে, কাজটাকে ভালবেসে করে যাও। কারণ তোমার সামনে এমনিতেই অনেক চ্যালেঞ্জ। নিজের কাজটাকে সামলে আরামসে করো, মন ভালো থাকবে। ডিফেন্স সাজাও আর শেষ ২০ মিনিটের কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করো। দৌড়ে যাও। স্বপ্ন দেখো। আমরাই জিতব...


অসংখ্য ধন্যবাদ তোমায় আমার সাথে আজকের আড্ডায় যোগদান দেবার জন্য ! এভাবেই আরেকদিন আড্ডায় বসবার আশা রাখলাম।


শুভঙ্কর : ধন্যবাদ না শুধুই ভালোবাসা এবং এই উদ্যোগের জন্য শুভেচ্ছা রইলো।


By Souptik Dey